ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিআইএ–ইসরায়েল মিলে কীভাবে খামেনির অবস্থান শনাক্ত করলো?

আপলোড সময় : ০১-০৩-২০২৬ ০২:৩৭:৪১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০১-০৩-২০২৬ ০২:৩৭:৪১ অপরাহ্ন
সিআইএ–ইসরায়েল মিলে কীভাবে খামেনির অবস্থান শনাক্ত করলো? সিআইএ–ইসরায়েল মিলে কীভাবে খামেনির অবস্থান শনাক্ত করলো?
নিজস্ব প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) ও ইসরায়েলের মোসাদের ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদানের পর ইসরায়েল তেহরানে এক লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালায়। এ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং একাধিক শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হন—এমনটাই জানিয়েছেন অভিযানের সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো।

হামলার আগে, সিআইএ কয়েক মাস ধরে খামেনির অবস্থান ও চলাচলের ধরণ পর্যবেক্ষণ করছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানের কেন্দ্রে নেতৃত্ব কমপ্লেক্সে শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক হবে এবং সেখানে খামেনি উপস্থিত থাকবেন—এমন ‘উচ্চ নির্ভুলতা’ সম্পন্ন তথ্য সিআইএ পায়। সেই তথ্য ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী রাতের অন্ধকারে হামলার কথা থাকলেও নতুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সময় পরিবর্তন করে শনিবার সকালেই আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নেয়। লক্ষ্য ছিল—ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে একযোগে নিষ্ক্রিয় করা।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর ৬টার দিকে যুদ্ধবিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। প্রায় দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর, তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র নেতৃত্ব কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। একটি ভবনে জ্যেষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অবস্থান করছিলেন, আর নিকটবর্তী আরেক ভবনে ছিলেন খামেনি।

হোয়াইট হাউস ও সিআইএ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ রোববার (০১ মার্চ) জানায়, হামলায় দুই উচ্চপদস্থ সামরিক নেতা নিহত হয়েছেন—রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি ও মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপোর।

সূত্রগুলো বলছে, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নেতৃত্ব ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের যোগাযোগ ও চলাচল প্যাটার্ন সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা পায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই খামেনির অবস্থান নির্ধারণ ও গতিবিধি পূর্বানুমান করার সক্ষমতা বাড়ানো হয়।

পরবর্তী হামলায় ইরানের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অবস্থান করা একাধিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। যদিও ইরানের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন, তবে গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপর্যায়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : NewsUpload

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ